29 C
Dhaka
Saturday, July 2, 2022

Buy now

অনুমতি ছাড়াই সাকিবের স্বর্ণ ব্যবসা, বিএসইসির ব্যাখা তলব

ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি স্বর্ণের ব্যবসা শুরু করেছেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার এবং বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

‘রিলায়েবল কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি’ এবং ‘বুরাক কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি’ নামে দুইটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি স্বর্ণের ব্যবসা শুরু করেন। তবে প্রতিষ্ঠান দুইটি শেয়ারবাজারসহ কমোডিটি এক্সচেঞ্জের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমতি না নিয়েই এ ধরনের পণ্যের ব্যবসা শুরু করেছে। তাই সাকিব আল হাসানের এ দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ সম্পর্কিত ব্যবসা শুরু করার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি।

সম্প্রতি রিলায়েবল কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি এবং বুরাক কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকেও অবহিত করা হয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ধারা ৮ (৪) অনুযায়ী, সদস্যভুক্ত কোনো ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কেউ স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয় এমন কোন সিকিউরিটিজের জন্য ব্রোকার বা ডিলার হিসেবে কাজ করবে না। ফলে এ পরিস্থিতিতে কমিশনের অনুমোদন ছাড়া বা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য না হয়েও কমোডিটি ফিউচার কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে ব্যবসা করার প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে আপনাদের অবস্থান জানতে চায় কমিশন। এ চিঠি জারি করার সাত কার্যদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা করার জন্য অনুরোধ করা হলো।”

চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, কমোডিটি ফিউচার কন্ট্রাক্ট সংক্রান্ত বিষয়ে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ধারা ২(সিসিসি) অনুযায়ী, কমোডিটি এক্সচেঞ্জে নগদ বা অফসেট কমিশনের সঙ্গে যথাযথভাবে নিবন্ধিত। কমোডিটি পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- কৃষি, পশুসম্পদ, মৎস্য, বনজ, খনিজ বা এনার্জি দ্রব্যাদি এবং এই জাতীয় পণ্য থেকে তৈরি বা প্রক্রিয়াজাত দ্রব্যাদি। এছাড়া কমিশন কর্তৃক সরকারি গেজেটের মাধ্যমে অবহিত করা যে কোনো পণ্য/দ্রব্যদি হতে পারে। আর সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ধারা ২(১)(৩) অনুসারে, কমোডিটি ফিউচার কন্ট্রাক্টকে নিরাপত্তা হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির একজন কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘কমোডিটি পণ্য সংক্রান্ত ব্যবসা করতে হলে বিএসইসির অনুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে। সাকিব আল হাসানের প্রতিষ্ঠান স্বর্ণ ব্যবসা শুরু করলেও এ সংক্রান্ত অনুমতি নেয়নি। ফলে তাদের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ২২ এপ্রিল রাজধানীর বনানীতে নিজের স্বর্ণ ব্যবসার শো-রুম উদ্বোধন করেন সাকিব আল হাসান। কিউরিয়াস লাইফ স্টাইলের সঙ্গে যৌথভাবে স্বর্ণ ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন তিনি। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সবাই যাতে চাইলে স্বর্ণ কিনতে পারে, সেই উদ্যোগ নিয়েছে সাকিবের প্রতিষ্ঠান। সেজন্য তারা ‘সুইস মেড ২৪কে মিন্টেড গোল্ড বারস’ ১ থেকে ১০০ গ্রামের স্বর্ণ কেনার সুযোগ রাখা হয়েছে।

সাকিবের বুরাক কমোডিটি এক্সচেঞ্জ কোম্পানি ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ ডিলার হিসেবে অনুমোদন পায়। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে ঢাকা, রংপুর ও কুমিল্লায় তিনটি অফিস দিয়ে বিদেশ থেকে সোনার বার ও অলঙ্কার আমদানি করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে।

রেস্টুরেন্ট, হোটেল, পুঁজিবাজার, প্রসাধনী, চিংড়ি ঘের, ট্রাভেল অ্যাজেন্সি, ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট ও ই কমার্সের পর সাকিব এবার স্বর্ণ ব্যবসা শুরু করেছেন। এছাড়া ব্যাংকিং খাতেও বিনিয়োগ করার চেষ্টা করেছেন। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দেয়নি সেই ব্যাংক। গত বছর সাকিব শেয়ার ব্যবসার জন্য মোনার্ক হোল্ডিংস নামে ব্রোকারেজ হাউসের লাইসেন্সও পেয়েছেন।

সম্পর্কিত আরো খবর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

অনুস্মরণ করুন

5,535FansLike
1,200FollowersFollow
2,000SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

সর্বশেষ নিউজ